প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

প্রতিষ্ঠার পটভূমি আসিয়া হাসান আলী মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ধনবাড়ী অঞ্চলের নারীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা। কলেজের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত অধ্যক্ষের বাণী অনুযায়ী, ১৯৯১ সালে সৈয়দা আশিকা আকবর (সাবেক সংসদ সদস্য) নারী শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। কলেজটি ধনবাড়ী উপজেলা সদরে ঐতিহাসিক নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর বাড়ির আঙ্গিনায় প্রতিষ্ঠিত হয়। সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন যুক্তবঙ্গের একজন বিশিষ্ট শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, ব্রিটিশ ভারতের বঙ্গীয় কৃষি ও শিল্পবিষয়ক মন্ত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা। প্রতিষ্ঠার সময় নারী শিক্ষার প্রসার ছিল এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রয়োজন। সেই প্রয়োজনকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজ ধীরে ধীরে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। ১৯৯১: প্রতিষ্ঠারইতিহাসে অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমানের অবস্থান আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমানের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক ভিত্তিকে সুসংগঠিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নে তাঁর নেতৃত্ব কলেজের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে উঠতে সহায়তা করে। পরবর্তী সময়ে গভর্নিং বডির সভাপতি হিসেবেও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা কলেজের প্রতি তাঁর দীর্ঘস্থায়ী দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে। তাই কলেজের ইতিহাসে তাঁর পরিচয় শুধু একজন সাবেক অধ্যক্ষ হিসেবে নয়; বরং “প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এম. আজিজুর রহমান”—এই পরিচয়েই তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বছর ১৯৯১ সালকে কলেজটির প্রতিষ্ঠাবর্ষ হিসেবে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি শিক্ষা-তথ্যভিত্তিক ডাটাবেসে প্রতিষ্ঠার তারিখ ২০ মার্চ ১৯৯১ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল— ধনবাড়ী অঞ্চলের নারী শিক্ষার প্রসার; মেয়েদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি; শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তোলা; আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা; নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার পর কলেজটি ধীরে ধীরে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাদান ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে। বর্তমানে কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় শিক্ষার সুযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক ভর্তি-তথ্যেও এই তিনটি শাখার উল্লেখ পাওয়া যায়। কলেজের HSC প্রতিষ্ঠান কোড 4752 এবং EIIN 114454। কলেজের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশিত রয়েছে। ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীতকরণ নারী শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তীকালে ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়। বর্তমানে কলেজটি আসিয়া হাসান আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ নামে পরিচিত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির Degree কলেজ কোড 5318 এবং EIIN 114454 হিসেবে উল্লেখ পাওয়া যায়। এভাবে কলেজটি শুধু উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এর ফলে ধনবাড়ী ও আশপাশের এলাকার নারী শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পায়। কলেজটির বর্তমান একাডেমিক কাঠামোতে উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার পরিধিও সম্প্রসারিত হয়েছে।.....

বিস্তারিত

Our Teacher